খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৪ পৌষ, ১৪৩২

বিগত ১৬ বছরেও সংস্কার হয়নি

ফরিদগঞ্জে ৩ কিলোমিটার সড়ক ৫ গ্রামবাসীর মরণ ফাঁদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
ফরিদগঞ্জে ৩ কিলোমিটার সড়ক ৫ গ্রামবাসীর মরণ ফাঁদ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের মুন্সিরহাট থেকে উভারামপুর গ্রামের প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ ১৬ বছর সংস্কার না হওয়ায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যানবাহন চলতে গিয়ে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। বালুর ট্রাক চলাচল করে তৈরী হয়েছে বড় বড় গর্ত। পায়ে হেঁটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। যার ফলে এলাকার পাঁচ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে খুব শিগগিরই এই সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সরেজমিন সড়কটির মুন্সিরহাট ব্রিজ থেকে উভারামপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ি মাঝার পর্যন্ত গিয়ে দেখাগেছে স্থানীয় লোকদের দুর্ভোগের চিত্র। স্থানীয় বিভিন্ন পেশা শ্রেণির লোকজন জানালেন তাদের দুর্ভোগের কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ এই সড়কটির নির্মাণ কাজ হয় ২০০৯ সালে। এরপর আর এই সড়কের কোন ধরণের সংস্কার কাজ হয়নি। সড়কের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রয়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, বেশ কয়েকটি কাওমী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং মাজার শরীফ। এছাড়াও স্থানীয় মুন্সিরহাট বাজার, ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর, জেলা সদরের যোগাযোগের জন্য এই সড়ক অন্যতম। সড়কটি বহুবছর ধরে স্থানীয় কাইতাড়া, উভারামপুর, সমেশপুর, বাশারা ও সুরঙ্গচাল গ্রামের লোকজন ব্যবহার করে আসছে।

সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক জাহাঙ্গীর বলেন, এই সড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে কোন রোগী যাত্রী নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়। সড়কটি দ্রুত পাকা করার দাবী জানাই।

কাইতাড়া গ্রামের বাসিন্দা মামুন হায়দার বলেন, এই সড়ক নির্মাণের পর সংস্কার হয়নি। কিন্তু চলাচলে যোগ্য ছিলো। কিন্তু গতে ৮ থেকে ১০ বছর স্থানীয় একাধিক বালু ব্যবসায়ীর ট্রাক চলাচল করতে গিয়ে সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরী হয়েছে। যে কারণে সামন্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, সড়কের সংস্কার কাজের টেন্ডার হলে ঠিকাদার এসে দেখেন পাকা সড়কের চিহ্নও নেই। যে কারণে আর কাজ হয়নি। আওয়ামী লীগের সময়ে অনেক জনপ্রতিনিধি এসে কাজ করার ওয়াদা দিলেও পরে আর খোঁজ খবর নেননি।

উভারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসন সর্বপ্রথম বালুর ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে হবে। কারণ সড়কের বেহাল অবস্থার জন্য তারাই দায়ী। এখন নতুন করে পাকা করা হলে তাদের কারণে সড়ের অবস্থার আগের মত হবে। বর্ষা মৌসুমে এই সড়কে দুরের শিক্ষার্থীরা খুবই কষ্ট করে চলাচল করে।

উটতলী নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, এই সড়কটি বৃষ্টির মৌসুমে চলাচলের অযোগ্য। সুস্ক মৌসুমে ধুলা-বালির কারণে শিশু শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ময়লা প্রবেশ করে। তারা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন বয়সি লোকজন এই সড়কে চলাচলের কারণে এলাার্জি জাতীয় রোগে আক্রান্ত। স্থানীয়দের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সড়ক নির্মাণ খুবই জরুরি।

মুন্সিরহাট বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. কাইয়ুম বলেন, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। গত দেড় দশক এই সড়কের সংস্কার হয়নি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা খুবই কষ্ট করে যাতায়াত করে। এখান দিয়ে কোন এ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে পারে না। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি পাকা করার দাবী জানাই।

উভরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, মুন্সিরহাট বেইলি ব্রিজ থেকে উভারামপুর পর্যন্ত সড়কের এই বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ভোগ হয় রোগীদের নিয়ে। আত্মীয় স্বজন করতে রাজি হয়না লোকজন।

একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা ইসমাইল তালুকদার খোকন বলেন, আমাদের গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের লোকজন বহুবছর অবহেলিত। আমাদের বহু দাবীর প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সড়কটি নির্মাণ কাজে কেউ এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আমাদের এই করুন অবস্থার কথা জানিয়েছি। আমাদের অঞ্চলের লোকদের দাবী দুর্ভোগ লাগবে সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ চাই।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান কবির বলেন, অর্থ সংকটের কারণে অনেক সময় সড়ক সংস্কার হয় না। ইউনিয়ন সড়কের পরে গ্রামীণ সড়কের নির্মাণ কাজ হয়। তবে এই সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনা করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাক্কলন তৈরী করে পাঠাবো। অনুমোদন এলে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করা হবে।

হামানকর্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ

নিজস্ব সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
হামানকর্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ
চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী হামানকর্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই বিতরণ করা হয়েছ।
১ জানুয়ারী বই বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান খান।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় বই বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মধুসূদন দাস।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা ও অভিভাবক বৃন্দ।

আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫ নং রামপুর ইউনিয়নের আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে বার্ষিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে। ২৬ ডিসেস্বর শুক্রবার আলগী পোলের গোড়া (স্বাধীন বাংলা বাজার) সংলগ্ন আলগী-সকদী পাঁচগাঁও কেন্দ্রীয়  ঈদগাহ ময়দানে বিকাল ৩ টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামগণ তাফসির পেশ করেন।

তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে ইসলামীক ফাউন্ডেশনের সাবেক উপ-পরিচালক আলহাজ্ব ড. মুহাম্মদ আব্দুল হক এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে তাফসির পেশ করেন ঢাকা জামি’আতুস সাহাবা মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের খতিব হাফেজ মাওলানা শায়খ বোরহান বিন মোহাম্মদ খান।
বিশেষ বক্তা হিসেবে তাফসির পেশ করেন চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, হযরত মাওলানা দ্বীন ইসলাম চাঁদপুরী, ভাটের গাঁও ইচুলী বাড়ি জামে মসজিদের খতিব বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা আব্দুল বাকী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক জে.এম. মেহেদী মাসুদ (মিঠু)।
এছাড়াও অন্যান্য ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে তাফসির পেশ করেন আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা মুফতি ইউসুফ আল- হাবিবী, চাঁদপুর প্রফেসর পাড়া জামে মসজিদের সাবেক খতিব হযরত মাওলানা ইয়াকুব আলী তপদার।
বিশিষ্ট সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মাওলানা মিজানুর রহমান এর যৌথ সঞ্চালনায় তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ আমলের নিয়তে কোরআর হাদিসের আলোকে হুজুরদের আলোচনা শুনেন।
মাহফিলে সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন আবুল কালাম মজুমদার, আব্দুর রহিম গাজী, লিয়াকত আলী খান, মো. নান্নু মিয়াজি, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম রাজু, মো. ইমন শেখ, মো. মুজাহিদ আহমেদ প্রমুখ।
মাহফিলের পূর্বে ইসলামী সাংস্কৃতি প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
সুশৃঙ্খল ভাবে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন করায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটি।

বিজয়ের দিনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক

মিজান লিটন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
বিজয়ের দিনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক

মহান বিজয় দিবস একটি ভালো দিন তাই আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহে এই দিনটি বেছে নিলাম। বিজয়ের দিনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন কালে চাঁদপুর – ৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এ কথা বলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র উত্তোলনের প্রথম দিন
(১৬ই ডিসেম্বর) মঙ্গলবার বিকেল ৩ টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক নাজমুল হাসান সরকারের কাছ থেকে এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, আজকের এই দিনটি মহান বিজয়ের দিন এটি একটি ভালো দিন আমার সৌভাগ্য এই দিনটিতে আমি আমার মনোনয়োন সংগ্রহ করতে পেরেছি। চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের সর্বপ্রথম আমিই মনোনয়ন সংগ্রহ করলাম। আমি আমরা আশাবাদী একটি সুষ্ট, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ১৭ বছর আমরা যেই দিনটির জন্য অপেক্ষায় ছিলাম আজ সেই কাঙ্খিত দিনটি সামনে এসেছে। তাই আমরা চাই প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ থেকে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়।

মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ কালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যা সেলিম, জসিম উদ্দিন খান বাবুল, দেওয়ান মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান, সংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির চৌধুরী।