খুঁজুন
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০ মাঘ, ১৪৩২

বাবা চলে যাবার আজ দুই বছর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
বাবা চলে যাবার আজ দুই বছর

প্রকৃতির আমোঘ নিয়মেই বাবা আমাদের ছেড়ে সাড়া দিয়েছেন আল্লাহর ডাকে। বাবা চলে যাবার আজ দুই বছর হলো। কিভাবে যে দুইটি বছর চলে গেল! এই দুই বছরে প্রতি দিনই বাবার অপরিসিম শূন্যতা অনূভব করেছি। বাবার ছায়া কি যে বিশাল সেটি বোধহ​য় কেবল যারা হারায় তারাই বুঝে।

আমার বাবা মোঃ আবুল কালাম পাঠান আমার দেখা সাধারণে অসাধারণ মানুষদের একজন। সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন যাপন করা সৎ ও কর্মনিষ্ঠ এই মানুষটি আমার জীবনের আদর্শ।

১৮ই অক্টোবর বাবার ২য় মৃত্যুবার্ষিকী। চোখ জলে ঝাপসা হয়ে আসে আব্বুর কথা মনে পড়লেই। এলোমেলো ভীড় করে অজস্র স্মৃতি। তিনি গত ১৮ই অক্টোবর ২০২৩ইং বুধবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আমরা বাবা বলতে রাশভারী গুরুগাম্ভীর্য যা বুঝি, আমাদের বাবা মোটেও সেরকম ছিলেন না। আমাদের ভাই বোনদের সেরা বন্ধু হয়ে কোমলতার পরশ ছ​ড়িয়ে দিতেন। বাবা কে আমরা ভ​য় পেতাম না, তবে ভেতর থেকে শ্রদ্ধা করতাম। সব সমস্যা, মনের অনুভূতি যেন প্রকাশের সেরা জায়গা।

বাবা থাকতে ভাবতাম, বাবা যদি না থাকেন, তবে আমরা কিভাবে থাকবো ! বাবা নেই আজ দুইটি বছর, বাবাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো এ কখনো কল্পনা করিনি, কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন। কেটে যাচ্ছে একেকটি দিন, মাস আর একেকটি বছর – বাবা নেই, আছে বাবার অনেকগুলো স্মৃতি, অনেকগুলো কথা, যা ভুলতে পারিনা, ভোলা যায়না।

তবুও সব ব্যথা, সব যন্ত্রণা ছাপিয়ে যদি বাবার মতো হতে পারতাম। যদি হতে পারতাম বাবার মতো উদার মনের মানুষ, মহৎ হৃদয়ের অধিকারী। যদি তার স্বপ্নের সমান বড় হতে পারতাম। আব্বু নেই! তার অনুপুস্থিতি আমাদের মাঝে বিরাট শুন্যতা তৈরি করেছে, যে শূন্যতা কিছুতেই পূরণ হবার নয়। মহান আল্লাহ তালা যেন বাবার অসম্পূর্ণ কাজ গুলি আমাদের দ্বারা পূর্ণতা দান করেন।

বাবা যখন হাসপাতালে থাকতেন, তখন তিনি অনেক কথা বলতেন, পুরনো দিনের স্মৃতিচারণা করতেন, মানুষকে খুব ভালোবাসতেন, ভালোবাসার সুকোমল অনুভূতির কথা বলতেন। বাবা কখনোই কারও বিরুদ্ধে কিছু বলা একদমই পছন্দ করতেন না। তিনি ছোট বড় সবাইকে সম্মান করতেন, সদা হাস্যজ্বল হৃদয়ে মানুষের বিপদের ক্ষণে আন্তরিকভাবে পাশে থাকতেন এবং কীভাবে মানুষকে আপন করে নিতে হয় সেটি শেখাতেন আমাদের।

আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া আমাদের বাবা। আমাদের বাবা সারাজীবন মানুষের উপকার করেছেন। তার জীবনের আদর্শ ছিলো মানুষের উপকার করা। খুব সাধারণভাবে চলাফেরা করা তার পছন্দ ছিলো।

বাবার অবদান, ত্যাগ, স্নেহ, ভালোবাসা সকল তুলনার ঊর্ধে। পিতার সাথে সন্তানের সম্পর্ক কখনো শ্রদ্ধার, কখনো ভয়ের আবার কখনো বা বন্ধুত্বের। পৃথিবীর সব সন্তানের কাছেই তার মা-বাবাই শ্রেষ্ঠ। আমাদের কাছেও তাই। পৃথিবীতে অন্য আট-দশ জন বাবা থেকে আমাদের বাবা একটু আলাদা। কারণ বাবার চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতা সবকিছু ভিন্ন রকম। পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষকে দেখেছি নিজের স্বার্থের জন্য মানুষের উপকার করে। কিন্তু সবসময় আমাদের বাবাকে দেখতাম নিঃস্বার্থভাবে মানুষের উপকার করতে। প্রয়োজনে নিজের ক্ষতি করে হলেও মানুষকে সাহায্য ও সহযোগিতা করত। তার সঞ্চয় ছিল শুধু মানুষের ভালোবাসা।

আজন্ম লোভ ও লালসার ঊর্ধ্বে থেকে গণমানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। সেবার দ্বারা ও মহৎ কর্মের মাধ্যমে আলোর প্রদীপ হাতে নিয়ে মানুষটি অবদান রেখেছিলেন, সে মানুষটি আজ নিজের হাতে গড়ে তোলা পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

বাবার মৃত্যুর পর অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে। বাসায় তাঁরা এসেছেন। দেশের নানা প্রান্ত ও দেশের বাইরে থেকে ফোন করেছেন। বাবার প্রতি তাঁদের যে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার অভিব্যক্তি দেখেছি, তা অতুলনীয় ও হৃদয়স্পর্শী। ভালোবাসার সম্ভবত একটি তরঙ্গ আছে। বাবা যেমন মানুষকে ভালোবাসতেন, তারাও তেমনি ভালোবাসতেন বাবাকে। ভালোবাসার সেই অদৃশ্য তরঙ্গ সবাইকে স্পর্শ করত।

বাবা সব সময় এত অকৃত্রিম, অনাড়ম্বর ও সহজভাবে থাকতেন যে তাঁর হৃদয়ের বিশালতা, গভীরতা ও প্রজ্ঞাসহ বহুকিছুই আমরা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারিনি। মানুষকে ভালোবাসলে, তাদের জন্য কাজ করলে ও জীবন উৎসর্গ করলে মানুষ ভালবাসায় তার প্রতিদান দেয়।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের কাছে প্রার্থনা করি, “তিনি যেন আমাদের বাবাকে মাফ করে দেন এবং জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন”।

লেখকঃ
মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ
বি. এ (ফাযিল),এম.এ কামিল(হাদিস বিভাগ)ই.বি
বি.এস.এস (অনার্স) এম.এস.এস (জা.বি)
এল এল.বি (জা.বি) এল এল. এম (ডি.আই.ইউ)
এডভোকেট
জজকোর্ট, চাঁদপুর।

হামানকর্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ

নিজস্ব সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
হামানকর্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ
চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী হামানকর্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই বিতরণ করা হয়েছ।
১ জানুয়ারী বই বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান খান।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় বই বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মধুসূদন দাস।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা ও অভিভাবক বৃন্দ।

আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫ নং রামপুর ইউনিয়নের আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে বার্ষিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে। ২৬ ডিসেস্বর শুক্রবার আলগী পোলের গোড়া (স্বাধীন বাংলা বাজার) সংলগ্ন আলগী-সকদী পাঁচগাঁও কেন্দ্রীয়  ঈদগাহ ময়দানে বিকাল ৩ টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামগণ তাফসির পেশ করেন।

তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে ইসলামীক ফাউন্ডেশনের সাবেক উপ-পরিচালক আলহাজ্ব ড. মুহাম্মদ আব্দুল হক এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে তাফসির পেশ করেন ঢাকা জামি’আতুস সাহাবা মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের খতিব হাফেজ মাওলানা শায়খ বোরহান বিন মোহাম্মদ খান।
বিশেষ বক্তা হিসেবে তাফসির পেশ করেন চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, হযরত মাওলানা দ্বীন ইসলাম চাঁদপুরী, ভাটের গাঁও ইচুলী বাড়ি জামে মসজিদের খতিব বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা আব্দুল বাকী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক জে.এম. মেহেদী মাসুদ (মিঠু)।
এছাড়াও অন্যান্য ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে তাফসির পেশ করেন আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা মুফতি ইউসুফ আল- হাবিবী, চাঁদপুর প্রফেসর পাড়া জামে মসজিদের সাবেক খতিব হযরত মাওলানা ইয়াকুব আলী তপদার।
বিশিষ্ট সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মাওলানা মিজানুর রহমান এর যৌথ সঞ্চালনায় তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ আমলের নিয়তে কোরআর হাদিসের আলোকে হুজুরদের আলোচনা শুনেন।
মাহফিলে সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন আবুল কালাম মজুমদার, আব্দুর রহিম গাজী, লিয়াকত আলী খান, মো. নান্নু মিয়াজি, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম রাজু, মো. ইমন শেখ, মো. মুজাহিদ আহমেদ প্রমুখ।
মাহফিলের পূর্বে ইসলামী সাংস্কৃতি প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
সুশৃঙ্খল ভাবে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন করায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটি।

বিজয়ের দিনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক

মিজান লিটন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
বিজয়ের দিনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক

মহান বিজয় দিবস একটি ভালো দিন তাই আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহে এই দিনটি বেছে নিলাম। বিজয়ের দিনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন কালে চাঁদপুর – ৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এ কথা বলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র উত্তোলনের প্রথম দিন
(১৬ই ডিসেম্বর) মঙ্গলবার বিকেল ৩ টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক নাজমুল হাসান সরকারের কাছ থেকে এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, আজকের এই দিনটি মহান বিজয়ের দিন এটি একটি ভালো দিন আমার সৌভাগ্য এই দিনটিতে আমি আমার মনোনয়োন সংগ্রহ করতে পেরেছি। চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের সর্বপ্রথম আমিই মনোনয়ন সংগ্রহ করলাম। আমি আমরা আশাবাদী একটি সুষ্ট, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ১৭ বছর আমরা যেই দিনটির জন্য অপেক্ষায় ছিলাম আজ সেই কাঙ্খিত দিনটি সামনে এসেছে। তাই আমরা চাই প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ থেকে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়।

মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ কালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যা সেলিম, জসিম উদ্দিন খান বাবুল, দেওয়ান মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান, সংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির চৌধুরী।