খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮ মাঘ, ১৪৩২

বর্ষার পরিকল্পনা জোবায়েদকে খুন করে মাহির, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই: পুলিশ

আলোকিত চাঁদপুর ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
বর্ষার পরিকল্পনা জোবায়েদকে খুন করে মাহির, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই: পুলিশ

রাজধানীর পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যার নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক ত্রিভুজ প্রেমের গল্প। পুলিশ জানিয়েছে, জোবায়েদের ছাত্রী ও প্রেমিকা শবনম বর্ষা নিজেই হত্যার পরিকল্পনা সাজায়, আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তার আরেক প্রেমিক মাহির ও তার বন্ধু আইলান। আর এ ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ।

পুলিশ বলছে, এই ঘটনার সঙ্গে বরগুনার মিন্নির ঘটনার সঙ্গে অনেকাংশ মিল রয়েছে। বর্ষা দুজনের কারো কাছ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলো না। ফলে সে নিজেই হত্যার পরিকল্পনা সাজায়।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ পুরান ঢাকার বংশাল থানার নুরবক্স লেনের একটি বাসায় ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে হত্যার শিকার হন। নিহত জোবায়েদ বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিকা বর্ষা একই সময়ে মাহির ও তার জোবায়েদেরে সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলো। ত্রিভূজ প্রেম থেকে বের হতে নিজেই হত্যার পরিকল্পনা সাজায় বর্ষা। এই ঘটনায় ছাত্রী বর্ষা তার প্রথম প্রেমিক মো. মাহির ও তার বন্ধু ফারদিন আহমেদ আইলানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্ষা একই সময়ে তার গৃহ শিক্ষক জোবায়েদ ও মাহিরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলো। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বর্ষার প্রথম প্রেমিক মাহির বিষয়টি নিয়ে বর্ষাকে চাপ প্রয়োগ করলে সেদিনই গৃহশিক্ষক জোবায়েদ কে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। পরবর্তীতে মাহির ও তার বন্ধু আইলান মিলে চাকু কিনে গত ১৯ অক্টোবর বর্ষার বাসায় অবস্থান নেয়। আর বর্ষা তার শিক্ষক ও প্রেমিক জোবায়েদকে ডেকে আনেন। এরপরই বর্ষার বাসার সিড়ি রুমে জোবায়েদকে বলা হয় বর্ষার থেকে সরে আসতে। এ নিয়ে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে জোবায়েদকে গলায় পোচ দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।এই ঘটনায় তাদের তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আমরা তদন্তে পেয়েছি মাহির একই বাসায় ভাড়া থাকতো। মাহির ও বর্ষার দীর্ঘদিনের পরিচয়। তবে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে দেড় বছর আগে। নিহত জোবায়েদ এক বছর ধরে বর্ষাকে পড়াতো। মেয়েটা জোবায়েদেরে প্রতি দূর্বল হয়ে যায়। মেয়েটার অবস্থা ছিলো এমন যে সে যখন যার কাছে যেতো তার কথা বলতো। এমন অবস্থায় মাহিরকে তার প্রেমিকা বর্ষা বলেছে জোবায়েদকে না সরাতে পারলে আমি তোমার হতে পারবো না। এভাবেই তারা জোবায়েদকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। মাহিরের এক আঘাতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যায় জোবায়েদের।

মাহিরকে তার মা থানায় হস্তান্তরের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, আসলে আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের নানা ধরনের কৌশল থাকে। আগে চট্টগ্রামের রাউজানে নিয়মিত শিক্ষার্থী অপহরণ করতো, মুক্তিপণ আদায় করতো। আমরা তখন অপহরণকারীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে তাদের ব্যবহার করে সমোঝতার চেষ্টা করতাম। ঠিক এভাবেই আমরা মাহিরকে থানায় দিয়ে যেতে চাপ প্রয়োগ করেছি। এটা আমাদের কৌশলের অংশ। স্বেচ্ছায় থানায় হস্তান্তর করা হয়নি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হত্যার বিষয়টি পুরো পরিকল্পনা বর্ষার। বরগুনার মিন্নির ঘটনার সঙ্গে অনেকাংশ মিল রয়েছে। মেয়েটা দুজনের কারো কাছ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলো না। ফলে সে নিজেই হত্যার পরিকল্পনা সাজায়। হত্যার পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক কোনো বিষয় ছিলো কি না জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, মাহির ও বর্ষা ২৬ সেপ্টেম্বর হত্যার পরিকল্পনা করে। এখানে রাজনৈতিক কোনো বিষয় নেই। এটা ত্রিভুজ প্রেমের ঘটনা।

প্রসঙ্গত, জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষা বর্ষের ছাত্র ১৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনায় কৃষ্ণপুর গ্রামে। গতকাল জোবায়েদকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

হামানকর্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ

নিজস্ব সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
হামানকর্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ
চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী হামানকর্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই বিতরণ করা হয়েছ।
১ জানুয়ারী বই বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান খান।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় বই বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মধুসূদন দাস।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা ও অভিভাবক বৃন্দ।

আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫ নং রামপুর ইউনিয়নের আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে বার্ষিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে। ২৬ ডিসেস্বর শুক্রবার আলগী পোলের গোড়া (স্বাধীন বাংলা বাজার) সংলগ্ন আলগী-সকদী পাঁচগাঁও কেন্দ্রীয়  ঈদগাহ ময়দানে বিকাল ৩ টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামগণ তাফসির পেশ করেন।

তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে ইসলামীক ফাউন্ডেশনের সাবেক উপ-পরিচালক আলহাজ্ব ড. মুহাম্মদ আব্দুল হক এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে তাফসির পেশ করেন ঢাকা জামি’আতুস সাহাবা মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের খতিব হাফেজ মাওলানা শায়খ বোরহান বিন মোহাম্মদ খান।
বিশেষ বক্তা হিসেবে তাফসির পেশ করেন চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, হযরত মাওলানা দ্বীন ইসলাম চাঁদপুরী, ভাটের গাঁও ইচুলী বাড়ি জামে মসজিদের খতিব বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা আব্দুল বাকী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক জে.এম. মেহেদী মাসুদ (মিঠু)।
এছাড়াও অন্যান্য ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে তাফসির পেশ করেন আলগী-সকদী পাঁচগাঁও ঈদগাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা মুফতি ইউসুফ আল- হাবিবী, চাঁদপুর প্রফেসর পাড়া জামে মসজিদের সাবেক খতিব হযরত মাওলানা ইয়াকুব আলী তপদার।
বিশিষ্ট সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মাওলানা মিজানুর রহমান এর যৌথ সঞ্চালনায় তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ আমলের নিয়তে কোরআর হাদিসের আলোকে হুজুরদের আলোচনা শুনেন।
মাহফিলে সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন আবুল কালাম মজুমদার, আব্দুর রহিম গাজী, লিয়াকত আলী খান, মো. নান্নু মিয়াজি, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম রাজু, মো. ইমন শেখ, মো. মুজাহিদ আহমেদ প্রমুখ।
মাহফিলের পূর্বে ইসলামী সাংস্কৃতি প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
সুশৃঙ্খল ভাবে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল সম্পন্ন করায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটি।

বিজয়ের দিনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক

মিজান লিটন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
বিজয়ের দিনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক

মহান বিজয় দিবস একটি ভালো দিন তাই আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহে এই দিনটি বেছে নিলাম। বিজয়ের দিনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন কালে চাঁদপুর – ৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এ কথা বলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র উত্তোলনের প্রথম দিন
(১৬ই ডিসেম্বর) মঙ্গলবার বিকেল ৩ টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক নাজমুল হাসান সরকারের কাছ থেকে এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, আজকের এই দিনটি মহান বিজয়ের দিন এটি একটি ভালো দিন আমার সৌভাগ্য এই দিনটিতে আমি আমার মনোনয়োন সংগ্রহ করতে পেরেছি। চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের সর্বপ্রথম আমিই মনোনয়ন সংগ্রহ করলাম। আমি আমরা আশাবাদী একটি সুষ্ট, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ১৭ বছর আমরা যেই দিনটির জন্য অপেক্ষায় ছিলাম আজ সেই কাঙ্খিত দিনটি সামনে এসেছে। তাই আমরা চাই প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ থেকে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়।

মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ কালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যা সেলিম, জসিম উদ্দিন খান বাবুল, দেওয়ান মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান, সংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির চৌধুরী।