খুঁজুন
রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ১৬ ভাদ্র, ১৪৩২

ঈদযাত্রার দিন থেকে কর্মবিরতির হুমকি রেলওয়ের গেটকিপারদের

চাকরি স্থায়ীকরণ দাবি

আলোকিত চাঁদপুর ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
চাকরি স্থায়ীকরণ দাবি

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি না মানলে আগামী ২৪ মার্চ থেকে একযোগে রেলপথ অবরোধ এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়েতে কর্মরত গেটকিপার-গেটম্যানরা। বুধবার সকালে রেলভবনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন কর্মচারীরা। সেখান থেকে এ হুমকি দেন তারা। মানববন্ধন থেকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

২৪ মার্চ থেকে রেলপথে ঈদযাত্রা শুরু করবেন ঘরমুখো মানুষ। সেদিন থেকেই কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলনরত গেটগিপার/গেটম্যানরা।

বিক্ষোভকারীরা জানান, দাবি আদায়ে গেটকিপার/গেটম্যানরা গত বছরের ১৮ আগস্ট রেলভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ওইদিন তৎকালীন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রেলসচিব, রেলওয়ে মহাপরিচালক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রতিনিধি, প্রশাসনের সব অ্যাডমিন ক্যাডার, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব/পশ্চিম অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্ব এবং পশ্চিম অঞ্চলের প্রকল্পের দেড় হাজার গেটকিপার/গেটম্যানের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেদিন রেলওয়ের মহাপরিচালক সিদ্ধান্ত দেন, বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্ব এবং পশ্চিম অঞ্চলের প্রকল্পের ১ হাজার ৫০৫ জন গেটকিপার ও গেটম্যানের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি যুক্তিসংগত। বৈঠকে গেটকিপার/গেটম্যানের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা জানান, তারা যেহেতু দীর্ঘ আট বছর রেলওয়েতে চাকরি করে অভিজ্ঞ, এ বিষয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশন এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করবে। গত বছরের ১ নভেম্বর আমাদের অফার লেটার হাতে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো দেওয়া হয়নি। বৈঠকে আমাদের বলা হয়, স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ার মতো ৪০ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পরীক্ষায় পাস করে ১ হাজার ৮৮৯ জন প্রকল্পের গেটকিপার/গেটম্যান পদে যোগদান করেন। বর্তমানে কর্মরত ১ হাজার ৫০৫ জন। আপনারা আট বছরের অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। দ্রুত চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাসও দেন।’

মানববন্ধনে তারা বলেন, ‘বারবার এ রকম আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণ ও বেতন সমস্যার সমাধান হয়নি। আমরা এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নতুন কোনো দাবি তুলছি না। ১৬০ বছরেরও অধিক সময় ধরে রেলের প্রচলিত বিধি মোতাবেক যে কোনো কর্মচারী তিন বছরের অধিক নিরবচ্ছিন্ন চাকরি করলে তাদের চাকরি সরাসরি স্থায়ীকরণ করা যায়। এজন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অনুমতি অনুযায়ী প্রকল্পের গেটকিপার/গেটম্যানদের চাকরি রাজস্ব করতে আইনি কোনো জটিলতা নেই।’

 

জেলা মৎস্যজীবী দলের উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ

আলোকিত চাঁদপুর রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
জেলা মৎস্যজীবী দলের উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে শহরের বড়স্টেশনে চাঁদপুর জেলা মৎস্যজীবী দলের আয়োজনে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণের পূর্বে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোস্তফা কামাল।

চাঁদপুর পৌর মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আমিন শেখ জিলানীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জসীম উদ্দিন খান বাবুল, খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু, ডি এম শাহাজাহান, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাজালাল মিশন, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, প্রচার সম্পাদক শরীফ উদ্দিন পলাশ, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, জেলা তাঁতী দলের সাবেক সদস্য সচিব মজিবুর রহমান লিটন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাদল, জেলা মৎস্যজীবী দলের সাংগঠনিক বাদল হোসেন, পৌর মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক হানিফ বকাউল, সদর উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন, পৌর মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ওচমান খান, পৌর ছাত্রদল সাবেক আহ্বায়ক মামুন খান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বিএনপির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন।চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক তারুণ্যে অগ্রদূত। তার নির্দেশেই এই মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি দলকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এমন একজন নেতা পেয়েছি বলে আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির সরকার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব দাসসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মৎস্যজীবী দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

চাঁদপুর শহরের যানজট নিরসনে প্রশাসনে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর

মিজান লিটন
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর শহরের যানজট নিরসনে প্রশাসনে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর

চাঁদপুর শহরের যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো ঘোষণা করা হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ মহসিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ রকিব উদ্দিন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্যাপ্টেন আশরাফ, পৌর প্রশাসক মোঃ গোলাম জাকারিয়া, পৌর সচিব আবুল কালাম ভূইয়া সহ পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘ আলোচনা শেষে যানজট কমানোর লক্ষ্যে ধাপে ধাপে বেশ কিছু কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পৌরসভার লাইসেন্সধারী অটোরিকশা লাল ও সবুজ রঙের ভিত্তিতে একদিন পরপর সড়কে চলবে।

সিএনজি চালিত অটোরিকশা হলুদ ও সবুজ রঙের ভিত্তিতে একদিন পরপর চলবে।
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ নিয়ম কার্যকর থাকবে।
তবে রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত সব রঙের সিএনজি ও অটোরিকশা স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে।

জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালগামী রোগীবাহী সিএনজি ও অটোরিকশাকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে। পৌরসভার আওতার বাইরে জেলার অন্যান্য এলাকায় উভয় রঙের যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।

সভায় সিএনজি, অটোরিকশা ও বাস মালিক-শ্রমিক নেতারা বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচলের কারণে শহরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল-বিকেলে অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

এ সময় জেলা প্রশাসক মোঃ মহসিন উদ্দিন বলেন, চাঁদপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। যানজট শুধু মানুষের সময়ই নষ্ট করছে না, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রেও বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। আমরা সবাই মিলে যদি এ সিদ্ধান্তগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করি, তবে অল্প সময়েই যানজট নিরসন সম্ভব হবে।

সভায় উপস্থিত সেনাবাহিনী ও পুলিশ কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে চাঁদপুর শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা অনেকাংশে নিরসন হবে। তবে সিদ্ধান্তগুলো টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা ও সকল শ্রেণির মানুষের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মত দেন সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের নির্ভরশীল আইটি এক্সপার্ট রাফান রাজ

আল-আমিন হাসান
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৯:২৮ অপরাহ্ণ
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের নির্ভরশীল আইটি এক্সপার্ট রাফান রাজ

চাঁদপুরের ছেলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য আইটি এক্সপার্ট হয়ে উঠছেন সারা বিশ্বে। ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে নানা ধরনের ঝুঁকি ও জটিলতা। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক কিংবা জিমেইল-এসব প্ল্যাটফর্মে প্রায়ই ব্যবহারকারীরা পড়েন আইডি হ্যাক, লগইন সমস্যা, ভেরিফিকেশন বা রিকভারি জটিলতায়।

আর এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান করে চাঁদপুরের তরুণ রাফান রাজ স্থান করে নিয়েছেন তরুণদের আস্থার জায়গা।

রাফান রাজ মূলত একজন আইটি এক্সপার্ট। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং জিমেইলসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের জটিল সমস্যা সমাধান করে আসছে তার টিম। তার দক্ষতার মাধ্যমে অনেকেই হারানো কিংবা হ্যাক হওয়া একাউন্ট ফিরে পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অনলাইন সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করে যাচ্ছেন তার টিম।

স্থানীয় থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলার তরুণ-তরুণী এবং প্রবাসীরাও তার টিমের মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নানা সমস্যা সামাধান করে নিচ্ছেন এক নিমিষেই। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে তিনি এবং তার টিম এখন ভরসার প্রতীক হয়ে উঠছেন।

রাফান রাজ বলেন, “প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে, তবে এর ঝুঁকিও কম নয়। আমি চাই সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারে। এজন্যই আমি চেষ্টা করি তাদের সমস্যার সমাধান দিতে।”

তিনি আরো বলেন, তিনি কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। তবুও তিনি থেমে নেই, তিনি তার উদ্যম দক্ষতায় এগিয়ে যেতে চান সফলতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে মানুষের পাশে থেকে। তিনি বলেন যতই বাধা বিপত্তি আসুক আমি তা এড়িয়ে মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।

ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার স্বপ্নও রয়েছে তার।

চাঁদপুরের তরুণ রাফান রাজ প্রমাণ করেছেন-দক্ষতা, মনোবল ও প্রশিক্ষণ থাকলে দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় এবং নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায়।