রাতের আধারে একটি বাজারের প্রায় অর্ধশত দোকান পাট ভাঙচুর ও লুটপাট


হাইমচরে রাতের আধারে এলাকার একটি বাজারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায় ৩ শতাধিক দুষ্কৃতিকারী অসহায় লোকজনের প্রায় অর্ধশত দোকান পাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুটপাট ও ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় হাইমচর থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিনগত রাতে হাইমচরের বাংলা বাজার এলাকায়।
বাংলা বাজারের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা চায়ের দোকানি নেছার আহমেদ বলেন, আমি একজন চা বিক্রেতা এবং এটিই আমার সংসারের আয়ের একমাত্র উৎস। আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে কখনোই যুক্ত ছিলাম না। আমার কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। তবুও রাতের আঁধারে বাজারের বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে একদল দুষ্কৃতিকারী দোকানে হামলা ভাঙচুর করে সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আমি এখন একেবারে নিঃস্ব। আমার বাচাঁর কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছিনা।
আরেক দোকানি মজিব কাজী বলেন, তারা প্রায় ৩/৪ জন মানুষ সংঘবদ্ধভাবে ইফতারের পর পর রাতে বাজারের দোকানপাটে হামলা চালায়। আমার দোকানেও কুপিয়ে মালামাল নিয়ে যায়। আমি কখনই কারো সাথে কোনো শত্রুতায় জড়াইনি।
দোকানদার লিটন কবিরাজ বলেন, ইফতার করার জন্য দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাই। এসে দেখি আমার দোকান কুপিয়ে শাটার ভেঙ্গে দোকানের ভিতরে ঢুকে নগদ অর্থসহ সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আমি এখন কী করবো কিছুই বুঝি না। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে ওরা এসে মেরেই ফেলবে সেই ভয়ে আমরা তটস্থ।
একইভাবে অন্যান্য ভুক্তভোগীরা বলেন, ওরা সংখ্যায় ৩/৪শ’ জন। ওরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজেরা নিজেরা আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে ক’দিন পরপর এরূপ কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা নিরীহ দোকানিরা। আমরা সরকার তথা প্রশাসনের কাছে এদের উপযুক্ত বিচার চাই।
এই বিষয়ে হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন সুমন বলেন, একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনির ও এমরান নামের দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হয়। পরে তারা আধিপত্য বিস্তার করে বাজারের বিভিন্ন দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আমরা যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি এবং ওখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি। কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে শুনেছি ভুক্তভোগিরা মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন