ফরিদগঞ্জে সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের সমাবেশ


ফরিদগঞ্জ উপজেলার দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা মোস্তফা কামাল লাঞ্ছিত হয়েছেন। এই ঘটনায় সোমবার বিকালে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশ করে চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।
সংবাদকর্মী আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, রোববার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার নিয়োগের লটারি চলাকালে বাঁধা প্রদানসহ বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য উপজেলা পরিষদে যাওয়ার সময়ে চাঁদপুর জেলা ছাত্র দলের সদস্য পরিচয় দেয়া আশিকুর রহমান পাটওয়ারীর নেতৃত্বে তাকে বাঁধা প্রদান ও লাঞ্ছিত করে এবং হুমকি দেয়। তাদেরকে এই বিষয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্মআহ্বায়ক আ: খালেক পাটওয়ারী ও ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্মসম্পাদক জাকির হোসেন উসকানি দেয়।
জানা গেছে, খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগে রোববার লটারির তারিখ নির্ধারিত ছিল। ১৫টি ইউনিয়নের আবেদনকারীসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি ইউএনও অফিসে উপস্থিত হন। তাদের সকলেই বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী। লটারি চলাকালে বালিথুবা পূর্ব, পাইকপাড়া উত্তর, গোবিন্দপুর দক্ষিণ ও চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন আবেদনকারীকে আওয়ামী লীগের লোক দাবি করে বাঁধা প্রদান করে। এর মধ্যে চার বারের সাবেক এমপি মরহুম আলমগীর হায়দার খানের ভাই কামাল খান ও তার ভাতিজা মিজানুর রহমানের আবেদনও রয়েছে। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের লটারি বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। এছাড়া পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের এক প্রার্থী নিজের আবেদন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এসব বিষয়ে জেনে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গেলে এবং লোকজনের সাথে এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদকালে সাংবাদিক আবু হেনা মোস্তফা কামালের উপর হঠাৎ করেই জেলা ছাত্রদলের সদস্য পরিচয় ধারী আশিক পাটওয়ারীসহ ৮/১০জন হামলা চালায়। এসময় তাকে টেনে হিচঁড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং অনবরত হুমকি ধমকি দিতে থাকে।
স্থানীয় লোকজন জানায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে হঠাৎ করেই আশিক পাটওয়ারীসহ একটি গ্রুপ নিজেদেরকে বিএনপির নেতা দাবি করে ফরিদগঞ্জে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তারা সোমবার ফরিদগঞ্জ পৌরসভার চলমান উন্নয়নকাজে প্রকাশ্যে বাঁধা প্রদান করে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, থানার দালালিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির যুগ্মআহ্বায়ক আঃ খালেক পাটওয়ারী বিগত সরকারের সময়ে পরপর তিনবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দল থেকে অব্যাহতি নেয়ার ঘোষনা দিলেও ৫ আগস্টের পর সে বিএনপির বড় নেতা সেজে বিভিন্ন কাজে অকাজে জড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ মো. ইউনুস জানান, আমি ঠুটুু জগন্নাথ। আমার শুধু জি হুজুর করতে হয়। আমাদের কোনো কথার মূল্য নেই। এই আশিক প্রকৃতভাবে দলের বা অঙ্গ সংগঠনের কোনো পদে নেই। তারপরও, তাকে কে বা কারা পালে ও দলীয় পরিচয়ে কুকর্ম করছে আমি জানি না। তবে, খালেকের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামালকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে সোমবার ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদের পরিচালনায় সভায় সর্বসম্মত ভাবে ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়ে আশিকসহ অন্যদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি এমকে মানিক পাঠান, সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী নোমান, সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী, আ. ছোবহান লিটন, সহসভাপতি মশিউর রহমান, সদস্য এস এম মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নারায়ন রবিদাস, এসএম ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল মুশফিক, প্রচার সম্পাদক আনিছুর রহমান সুজন, অর্থ সম্পাদক আক্তার হোসেন, সহ অর্থ রুহুল আমিন খাঁন স্বপন, কার্যনির্বাহী সদস্য শিমুল হাসান, জাকির হোসেন সৈকত, আইসিটি সম্পাদক গাজী মমিন, সদস্য মেহেদী হাসান, অমান উল্যাহ খাঁন ফারাবী, নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক তাপস চক্রবর্তী, সদস্য ফখরুল পাঠান, ফাহাদ খাঁন, সাখাওয়াত হোসেন মিন্টু, শামীম হাসান প্রমূখ।
এদিকে প্রেসক্লাব থেকে জানানো হয় ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের বাসিন্দা জাকির হোসেনকে ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে অপসাংবাদিকতাসহ চাঁদাবাজির অভিযোগে প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানেও তার বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কাজ করা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে অপসাংবাদিকতা করার অভিযোগ রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন