খুঁজুন
শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র, ১৪৩১

বিরলে ভাষার কারনে আর ঝড়ে পড়বেনা আদিবাসী কড়া সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
বিরলে ভাষার কারনে আর ঝড়ে পড়বেনা আদিবাসী কড়া সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী

দেশের একমাত্র ক্ষুদ্রনৃ-গোষ্ঠীর প্রায় বিলুপ্ত ‘কড়া’ সম্প্রদায়ের বাস দিনাজপুরে। উত্তরাঞ্চলে আদিবাসী ৩০টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠি ‘কড়া’। এই সম্প্রদায়ের মানুষ ভাষাগত কারনে শিক্ষা জীবন ও জীবন মান উন্নয়ন হয়নি সেইভাবে। উচ্চ শিক্ষা তো দূরের কথা, মাধ্যমিক গোন্ডি পেরিয়ে কলেজ পর্যন্ত যেতে পারেনি কেউ। কিন্তু একজন ছাত্র এই অসাধ্যকে সম্ভব করেছেন, সে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তার মত এখন ওই গ্রামের অনেকেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। গ্রামে স্থাপন হয়েছে কড়া পাঠশালা নামের একটি স্কুল। এই সম্প্রদায়ের জীবন মান উন্নয়নে শিক্ষার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা। দেশের ক্ষুদ্রনৃ-গোষ্ঠীর ‘কড়া’ সম্প্রদায়ের একমাত্র ঠিকানা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার হালজায় ঝিনাইকুড়ি গ্রামে। প্রায় বিলুপ্ত এই জাতি গোষ্ঠির আদিকাল থেকে এই অঞ্চলে বসবাস করে আসলেও নানা কারনে পিছিয়ে রয়েছেন তারা। এক সময় বন-জঙ্গলে শিকার করে জীবন-জীবিকা চললেও বর্তমানে কৃষি ও কৃষি শ্রমিকের কাজ করেই কষ্টে দিন পাড় করছেন এই সম্প্রদায়ের মানুষ। শুধু তাইনয় এখন অবধি স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কেউ পা রাখতে পারেনি কলেজে।

এমন বাস্তবতায় এবং চরম প্রতিকুলতার মধ্যেও কড়া সম্প্রদায়ের একমাত্র নক্ষত্র লাপল কড়া পা রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে। সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী। লাপল তার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছেন ভাষাগত কারনে ক্ষুদ্রনৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগ ঝড়ে পড়ছে। তাই নিজ উদ্যোগে এবং স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা ভাবনার সহযোগিতায় গ্রামে “কড়া পাঠশালা” নামের একটি স্কুল শুরু করেছেন। লাপল বিশ্বাস করেন কড়া সম্প্রদায়ের একমাত্র তারা সে নয়, তার মত এই গ্রাম থেকে অনেকেই আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। কড়া পাঠশালার শিক্ষকরা আদিবাসী হওয়ায়, শিক্ষার্থীদের তাদের মতকরে এবং তাদের ভাষায় পড়াশোনা বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীরা বেশ মনোযোগী হয়েছে এবং অভিভাবকেরাও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। ভাবনা’র নির্বাহী পরিচালক মো: মোস্তাফিজুর রহমান রুপম জানান, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা স্কুল শেষে ও ফ্রি সময় কড়া পাঠশালায় এসে বিনামূল্যে প্রাইভেট পড়ছে। জীবন মানের উন্নয়নের জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই এবং এই গ্রামটি একদিন আদর্শ গ্রামে রূপ নেবে বলে মনে করছেন তিনি। এই গ্রামে ২৪টি আদিবাসী কড়া পরিবার রয়েছে। এছাড়াও কড়া পাঠশালায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯জন এবং এর মধ্যে স্কুলে যায় ১১জন।

মাত্র ৫ টাকায় ঈদের নতুন পোশাক : হাসি ফুটলো ৫০০ শিশুর

আলোকিত চাঁদপুর রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
মাত্র ৫ টাকায় ঈদের নতুন পোশাক : হাসি ফুটলো ৫০০ শিশুর

মাত্র ৫ টাকা! এই টাকায় হয়তো আমরা এক কাপ চা কিনি কিন্তু চাঁদপুরের ফরাক্কাবাদের ৫০০ শিশুর কাছে এই ৫ টাকা ছিল ঈদের নতুন জামার স্বপ্ন পূরণের চাবিকাঠি। ঈদের আনন্দ যেখানে অনেকের জন্য নতুন পোশাকের হাসি, সেখানে ফরাক্কাবাদের শত শত সুবিধাবঞ্চিত শিশুর সেই হাসি ছিল অনিশ্চিত। তাদের সেই স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এসেছে স্বপ্নতরু সামাজিক সংগঠন।

“মানবতার কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ” এই স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে, দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে স্বপ্নতরু। তারই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে স্বপ্নতরু সামাজিক সংগঠনের ফরাক্কাবাদ শাখা আয়োজন করে এক ব্যতিক্রমী ঈদ বাজারের।

শনিবার সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার ফরাক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ যেন রঙিন হয়ে ওঠে সেই শিশুদের হাসিতে। অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে ৫ টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়া হয় নতুন ঈদের পোশাক।

তবে এটি কোনো দান নয়, ছিল এক সম্মানের আয়োজন। শিশুদের হাতে জামা তুলে দেওয়া হয় ‘ক্রয় করার’ অনুভূতি দিয়ে, যাতে তারা বুঝতে পারে এই জামা তারা নিজেরাই কিনেছে, দয়ার হাত পেতে নয়।
স্বপ্নতরু সামাজিক সংগঠনের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমরা চাই, কেউ যেন ঈদের দিনে নতুন জামা না পেয়ে কষ্টে না থাকে। সেই ভাবনা থেকেই ৫ টাকার বিনিময়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। যাতে তারা বোঝে, এ আনন্দ তাদের নিজের অধিকার।”

ঈদের নতুন জামা হাতে পেয়ে অনেক শিশুর চোখে ছিল খুশির জল। কারও হাতে রঙিন জামা, কারও হাতে নতুন ফ্রক, কেউবা পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে বলছিল এবার আমিও নতুন জামা পরব!”
ফরাক্কাবাদের স্কুল মাঠের সেই দৃশ্যটা যেন ছিল মানবতার সবচেয়ে সুন্দর ছবির মতো।

মাত্র ৫ টাকায় কেনা জামার বিনিময়ে শত শত শিশুর মুখে ফুটে উঠলো ঈদের হাসি। স্বপ্ন দেখুক তারা, এগিয়ে যাক মানবতা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্বপ্নতরু সংগঠনের সকল শাখার সদস্যরা।

চাঁদপুর এসএসসি ৯৩ ব্যাচ বন্ধু মহলের ইফতার মাহফিলে যুগ্ম সচিব নাজমুল আহসান

আলোকিত চাঁদপুর রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর এসএসসি ৯৩ ব্যাচ বন্ধু মহলের ইফতার মাহফিলে যুগ্ম সচিব নাজমুল আহসান

চাঁদপুর এসএসসি ৯৩ ব্যাচ বন্ধু মহলের ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত বন্ধু মোহাম্মদ নাজমুল আহসানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ৯৩ ব্যাচের সকল বন্ধুরা।

চাঁদপুর এসএসসি ৯৩ ব্যাচ বন্ধু মহলের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের রেডচিলি চাইনিজ এন্ড রেষ্টুরেন্টে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

ইফতার মাহফিলে অংশ নেন এসএসসি ৯৩ ব্যাচের বন্ধু ও বাংলাদেশ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ নাজমুল আহসান।

ইফতার মাহফিলের পূর্বে ৯৩ ব্যাচের সকল বন্ধুরা মিলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব নাজমুল আহসানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
পরে বন্ধু মহলের আব্দুল গফুরের দোয়া ও মুনাজাত পরিচালার মাধ্যমে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় চাঁদপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের এসএসসি ৯৩ ব্যাচের সকল বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক

শওকত আলী
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক

পবিত্র ঈদুল ফিতর সুন্দরভাবে উদযাপন করার লক্ষ্যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

শনিবার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জেলার প্রতিটি উপজেলায় আহত ও শহিদ পরিবারের কাছে ঈদ উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১৪৫ জন আহত এবং ৩১ জন শহীদ পরিবারকে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়। এছাড়াও জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ২৯ জন শহীদ পরিবারকেও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ঈদ সামগ্রী দেয়া হয়।

ঈদ সামগ্রীর মধ্যে ২ কেজি পোলাওয়ের চাল, সয়াবিন তেল ২ লিটার, সেমাই ৪ প্যাকেট, চিনি ১ কেজি, কিসমিস ও গুড়া দুধ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জানান, আমি চেয়েছি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা যেন পবিত্র ঈদুল ফিতর সুন্দরভাবে উদযাপন করতে পারে তার জন্যে একটু ক্ষুদ্র উপহার সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

ডিসি আরো বলেন, শুধুমাত্র ঈদ নয়, সবসময়ই চাঁদপুর জেলা প্রশাসন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত এবং শহীদ পরিবারের পাশে থাকবে। আমি আশাকরি রাষ্ট্রও সবসময়ই তাদের পাশে আছে এবং থাকবে। কারণ রাষ্ট্র সবসময়ই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত এবং শহীদদের কথা ভাবেন এবং চিন্তা করেন।