খুঁজুন
শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ১৫ ভাদ্র, ১৪৩২

নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে ‘অস্থির’ না হয়ে ‘ধৈর্য’ ধরতে হবে: আমীর খসরু

আলোকিত চাঁদপুর ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে ‘অস্থির’ না হয়ে ‘ধৈর্য’ ধরতে হবে: আমীর খসরু

আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা নিয়ে ‘অস্থির’ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এ ব্যাপারে সবাইকে ‘সহনশীল’ হতে ও ‘ধৈর্য’ ধারণ করতে বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সব দলের মধ্যে ঐকমত্য আছে। কোথাও দ্বিমত আছে বলে আমরা মনে করি না। আর দিনক্ষণ যেটা, সেটা তো নির্বাচন কমিশন (ইসি) ডিক্লেয়ার করবে। সেটা তো আর সরকার বলতে পারবে না, আমরাও বলতে পারবো না।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো ডায়াস ফেরেসের সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে (রমজানের আগে) একটা জাতীয় ঐকমত্য আছে। এটা সবারই মতামত, এ জায়গায় কোথাও দ্বিমত আছে বলে মনে করি না। বিভিন্ন কারণে এ জায়গাটায় আমরা এসেছি এবং জাতীয় ঐকমত্য পোষণ করছি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে আসবে এবং আমরা সেটার জন্য অপেক্ষা করবো। নিশ্চয়ই কোনো একটা সময়ে আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটা দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। তো এটার জন্য আমাদেরও তো একটু ধৈর্য ধরতে হবে, তাই না? একদম অস্থিরতার মধ্যে সারাক্ষণ থাকলে তো হবে না। একটু তো ধৈর্য ধরতে হবে। একটু সহনশীল হতে হবে।

বিএনপির এ শীর্ষ নেতা আরও বলেন, আমাদের মধ্যে আস্থারও একটা ব্যাপার আছে। আমরা যদি একেবারে আস্থাহীন হয়ে যাই, একদম অস্থিরতার মধ্যে থাকলে তো সমস্যা। এটা কোনো জাতির জন্য কাম্য নয়। আমরা সঠিক পথে যাবো। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে, এতটুকু আস্থা আমাদের সবাইকে রাখতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে কোনো বার্তা দেওয়া যায় কি না—এমন প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, নিশ্চয়ই। এটা নিয়ে সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কথা হবে। এটা তো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা তো রুটিন ব্যাপার, তাই নয়। সুতরাং আমরা সবাই একটু ধৈর্য ধরে সময় দেই।

তিনি বলেন, লন্ডনের বৈঠক আমার মনে হয় জাতির জন্য একটা বড় ধরনের ইতিবাচক ঘটনা। আমরা সেটাকে সেভাবেই দেখি। এটিকে কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলা বিঘ্নিত করা ঠিক হবে না। আমি তো মনে করি খুবই বিবেচনাপ্রসূত আলাপ-আলোচনা, কথাবার্তা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা একটু ধৈর্য সহকারে এগোতে থাকি। সবকিছু সমাধান আগামী দিনে হবে এবং সময়মতো দেশে নির্বাচন হবে। দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।

‘জনগণের যে ভোটাধিকার, মানবাধিকার, তার মালিকানা ফিরে পাওয়া, যার জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেছি আমরা, সময়মতো হয়ে যাবে। দেশ সেদিকেই যাচ্ছে, সেটা আমরা বিশ্বাস করি।’

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ পড়ানো নিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এ সদস্য বলেন, আইনগতভাবে কোর্টের রায় হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও আসছে। সুতরাং সবাই অপেক্ষায় আছে। আমরা দেখি সরকার কী সিদ্ধান্ত দেয়। একটু অপেক্ষা করি, একটু ধৈর্য ধরি। নিশ্চিতভাবে সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। আমরা সবাই বিশ্বাস করি। সুতরাং আমরা একটু ধৈর্য ধরি।

আমীর খসরু বলেন, আগামী দিনে বিএনপি বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটা বড় পরিবর্তন আনতে চায়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং ঐকমত্যের ওপর আমরা জোর দিচ্ছি।

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, রাজনীতি ও ফুটবল খেলার উন্নয়ন-পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কীভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও উন্নত করা যায় সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটি ও চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক বিশেষ সহযোগী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ।

চাঁদপুর জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের পরিচিত সভা

আলোকিত চাঁদপুর রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের পরিচিত সভা

চাঁদপুর জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের নবগঠিত কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪ টায় চাঁদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে কুরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে ফুল দিয়ে বরণ করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দরা।

চাঁদপুর জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি জিএম মানিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান এবং সহ-সভাপতি ফারুক হাসানের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাজী রাসেল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য ও রাখেন চাঁদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান, যুগ্ম আহবায়ক সাংবাদিক জাকির হোসেন, মাসুম সরকার, যুগ্ম সদস্য সচিব সামিউল প্রধান, উমর সালমান, চাঁদপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালাল আহমেদ শাওন, চাঁদপুর সদর উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ রাশেদুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোঃ আল-আমিন (সুমন), চাঁদপুর পৌর যুব অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মাসুদ রানা নিশান।

সভায় আর বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমেদ বেপারী, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক আরবি আহমেদ শাওন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইউসুফ বেপারী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর মিজি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি সংরক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক সাকিব আহমেদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ সাদ সরকার প্রমূখ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গাজা শহর দখলের অনুমোদন দেবেন নেতানিয়াহু

আলোকিত চাঁদপুর ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
গাজা শহর দখলের অনুমোদন দেবেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা শহর দখলের পরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এরমধ্যে হামাসের সঙ্গে চলমান আলোচনাও আবার শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যার লক্ষ্য হচ্ছে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি এবং প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান।

বৃহস্পতিবার গাজার কাছে সেনাদের সঙ্গে কথা বলার সময় নেতানিয়াহু বলেন, তিনি এখনো গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনায় অটল রয়েছেন। এই পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া এবং ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ধ্বংসের ধারাবাহিক অভিযান।

নেতানিয়াহু বলেন, একই সঙ্গে আমি আমাদের সব জিম্মিকে মুক্তি এবং যুদ্ধের অবসানের জন্য ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্য শর্তে অবিলম্বে আলোচনা শুরুর নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছি।

গাজা সিটিতে সম্ভাব্য বড় অভিযান আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে, যদি বৃহস্পতিবার বিকেলে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে থাকেন।

এরই মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা শহরে আক্রমণ জোরদার করেছে এবং গত ১০ দিনে ট্যাঙ্ক এগিয়ে আসায় হাজারো ফিলিস্তিনি নিজ ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

এরই মধ্যে হামাস জানিয়েছে, তারা কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে, যা ইসরায়েল মেনে নিলে সম্ভাব্য এই হামলা এড়ানো যেতে পারে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা ডাকার পরিকল্পনা করছে এবং অতিরিক্ত ২০ হাজার সেনার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

ক্ষমতাচ্যুত হলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত চাঁদপুর ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ৮:২১ অপরাহ্ণ
ক্ষমতাচ্যুত হলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। এর আগে কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে একটি ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার জেরে আদালত তার পদ স্থগিত করেছিলেন। শুক্রবার পেতোংতার্নকে ক্ষমতা থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এখন দেশটির আইনপ্রণেতারা যদি একমত হন তবে নতুন একটি সরকার গঠন করতে পারেন। আর সেটি সম্ভব না হলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

পেতংতার্ন ২০২৪ সালের আগস্টে ৩৭ বছর বয়সে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাত্র এক বছর ক্ষমতায় থাকার পরই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন তিনি। সদ্য সাবেক এ নারী থাই রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য।

ফাঁস হওয়া সেই ফোনকলে তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলতে শোনা যায়। ওই সময় তিনি তার নিজ দেশের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে বলেন, তার সেনাদের কারণেই কম্বোডিয়ার এক সেনার প্রাণ গেছে।

গত ১৫ জুনের ওই ফোনকলে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পেতংতার্ন বলেন, ‘কোনো কিছু চাইলে, আমাকে বলবেন। আমি বিষয়টি দেখব।’ তার এই মন্তব্যটি নিয়েই মূলত বেশি সমালোচনা শুরু হয়।

ফোনকলটি ফাঁস হওয়ার সময় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চরম সীমান্ত উত্তেজনা চলছিল। থাইল্যান্ডের মানুষের মধ্যে তখন জাতীয়তাবাদও প্রচণ্ডরকমভাবে দেখা যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পেতংতার্ন ও হুনের ফোনকলটি সামনে আসে।

হুন সেনের সঙ্গে পেতংতার্নের ওই ধরনের কথোপথন থাইল্যান্ডের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে পেতোংতার্ন গোপনে থাইল্যান্ডের স্বার্থকে বিসর্জন দিচ্ছেন।

এদিকে, ফোনকলটি প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ পর দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষও ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচ দিনের ওই সংঘর্ষে অন্তত ৩৮ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন লাখো মানুষ। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ওই সংঘর্ষ থামে।

অবশ্য বিষয়টি সামনে আসতেই পেতংতার্ন সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চান। তিনি দাবি করেন, কম্বোডিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল হিসেবে তিনি এভাবে কথা বলেছিলেন।

সূত্র: সিএনএন