খুঁজুন
রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ১৬ ভাদ্র, ১৪৩২

খাদ্যবাহিত রোগে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় সোয়া ৪ লাখ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
খাদ্যবাহিত রোগে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় সোয়া ৪ লাখ শিশুর মৃত্যু

খাদ্যবাহিত রোগে প্রতিবছর বিশ্বে ৪ লাখ ২০ হাজার শিশুর মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মতে, মারা যাওয়া এসব শিশুর বয়স পাঁচ বছরের নিচে।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এক গবেষণা প্রবন্ধে এ তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম।

প্রবন্ধে বলা হয়, খাদ্য বিভিন্নভাবে দূষিত হয়। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস (ছত্রাক), কেমিক্যাল (রাসায়নিক পদার্থ), বিষাক্ত উপাদান। এ ছাড়া, শারীরিকভাবে প্রস্তুত করার সময়ও খাবার দূষিত হতে পারে। খাদ্য বিষাক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ ফরমালিন, ইউরিয়া ও ক্যালসিয়াম কারবাইড ব্যবহার।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২০ সালে বাংলাদেশে কেবল ডায়রিয়ায় ৩৫ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২০২২ সালে কলেরায় মারা গিয়েছিল ১ হাজার ৪০০ মানুষ।

উপস্থাপনায় খাবার সংরক্ষণের বিষয়ে খালেদা ইসলাম বলেন, ‘খাবার সংরক্ষণে আলাদা আলাদা তাক ব্যবহার করতে হবে। সঠিক উপায়ে রান্না করতে হবে। সঠিক তাপমাত্রা সংরক্ষণ এবং নিরাপদ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

সেমিনারে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে খাদ্য পুষ্টিগুণ বজায় রাখা এবং উত্তম পারিবারিক অনুশীলন বজায় রাখতে হবে। সমাজের সুস্বাস্থ্য উন্নয়নে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ খাদ্য কেবলমাত্র রোগ প্রতিরোধেই সহায়ক নয়, এটি শরীরের সঠিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, খাদ্য আমাদের দেহের শক্তি ও পুষ্টির প্রধান উৎস। কিন্তু নিরাপদ খাদ্যের অভাবে কারণে নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি রয়েছে। খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ পদ্ধতির প্রতিটি ধাপে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন। রাসায়নিক মুক্ত ও ভেজালমুক্ত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আমাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারি। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। খাদ্যের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে আমিষ, শর্করা, চর্বি ও ভিটামিন থাকতে হবে।

অপরদিকে দূষিত ভেজাল খাবার শরীরে নানা রোগের সৃষ্টি হতে পারে যেমন—ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়া, ক্যানসার ইত্যাদি। নিরাপদ খাদ্য আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে যা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

এতে বলা হয়, বাজার থেকে খাদ্য কেনার সময় গুণগতমান ও মেয়াদ যাচাই করা, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে সরকারি আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করা, খাদ্যের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রচারণা সচেতনতা বৃদ্ধি করা খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে খাদ্য মান নিয়ন্ত্রণ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে আজ এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুল হাসান।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুল খালেক, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সাল ইমাম এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার দাস প্রমুখ।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের নির্ভরশীল আইটি এক্সপার্ট রাফান রাজ

আল-আমিন হাসান
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৯:২৮ অপরাহ্ণ
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের নির্ভরশীল আইটি এক্সপার্ট রাফান রাজ

চাঁদপুরের ছেলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য আইটি এক্সপার্ট হয়ে উঠছেন সারা বিশ্বে। ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে নানা ধরনের ঝুঁকি ও জটিলতা। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক কিংবা জিমেইল-এসব প্ল্যাটফর্মে প্রায়ই ব্যবহারকারীরা পড়েন আইডি হ্যাক, লগইন সমস্যা, ভেরিফিকেশন বা রিকভারি জটিলতায়।

আর এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান করে চাঁদপুরের তরুণ রাফান রাজ স্থান করে নিয়েছেন তরুণদের আস্থার জায়গা।

রাফান রাজ মূলত একজন আইটি এক্সপার্ট। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং জিমেইলসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের জটিল সমস্যা সমাধান করে আসছে তার টিম। তার দক্ষতার মাধ্যমে অনেকেই হারানো কিংবা হ্যাক হওয়া একাউন্ট ফিরে পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অনলাইন সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করে যাচ্ছেন তার টিম।

স্থানীয় থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলার তরুণ-তরুণী এবং প্রবাসীরাও তার টিমের মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নানা সমস্যা সামাধান করে নিচ্ছেন এক নিমিষেই। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে তিনি এবং তার টিম এখন ভরসার প্রতীক হয়ে উঠছেন।

রাফান রাজ বলেন, “প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে, তবে এর ঝুঁকিও কম নয়। আমি চাই সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারে। এজন্যই আমি চেষ্টা করি তাদের সমস্যার সমাধান দিতে।”

তিনি আরো বলেন, তিনি কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। তবুও তিনি থেমে নেই, তিনি তার উদ্যম দক্ষতায় এগিয়ে যেতে চান সফলতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে মানুষের পাশে থেকে। তিনি বলেন যতই বাধা বিপত্তি আসুক আমি তা এড়িয়ে মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।

ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার স্বপ্নও রয়েছে তার।

চাঁদপুরের তরুণ রাফান রাজ প্রমাণ করেছেন-দক্ষতা, মনোবল ও প্রশিক্ষণ থাকলে দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় এবং নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায়।

ভিপি নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে চাঁদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

‘আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে হামলাকারীদের আটক করা না হলে পরিনাম হবে ভয়াবহ’

আলোকিত চাঁদপুর রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
‘আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে হামলাকারীদের আটক করা না হলে পরিনাম হবে ভয়াবহ’

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে চাঁদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। শনিবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড জেলা গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সম্মুখে চাঁদপুর কুমিল্লা মহসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় ঘন্টা খানেক ব্লকেড করেন। এতে করে যান চলাচলে সাময়িক বিগ্ন ঘটে। পরবর্তীতের একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালি বাড়ী শপথ চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। এ কর্মসূচিতে একত্বতা পোষণ করে অংশগ্রহন করেন এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, জুলাই মঞ্চ, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র-জনতা সহ আরো অনেকেই।

সমাবেশে জেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাজী রাছেলের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক জাকির হোসেন এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জিওপি’র সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান, জেলা খেলাফত মজিলিসের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, এনসিপি’র সদর উপজেলার মূখ্য সমন্বয়ক তামিম খান, এনসিপি নেতা সাইফুল ইসলাম, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম. শরীফ হোসেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি জি.এম. মানিক, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের জেলা সভাপতি সৈয়দ সাকিবুল ইসলাম, জুলাই মঞ্চের পৌর আহ্বায়ক তুহিন আহমেদ, ছাত্রদের পক্ষে রাকিব ভূঁইয়া, সাগর হোসেনসহ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা জাতীয় পার্টি, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ করে। এছাড় অন্তবর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকার গঠন এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

বক্তারা বলেন, প্রথমে পুলিশ ও সেনাবাহিনী আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়, তারপর জাতীয় পার্টি। ঘটনার সময় নুরুল হক নুর মাটিতে পড়ার পর লাল টি-শার্ট পরা এক যুবক বেধড়ক মারধর করে। এ ঘটনায় জিড়তদের আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আটক করতে না পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।

বক্তারা আরো বলেন, ইন্টিরিয়াম সরকারের সহযোগীতায় ফ্যাসিস্টদের দোষর জাতীয় পার্টি তাদের রাজনৈতিক কর্মকন্ড পরিচালনা করছেন এবং তাদের উপর ভর করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদরা ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। ২৪ এর বাংলায় রাজনিতি করার অধিকার হারিয়ে ফেলছেন। তাদেরকে যারা সহযোগীতা করবে তারাই হলো ফ্যাসিস্টদের দোষর।

ভিপি নুরের ওপর হামলা দেশে সংকটের নতুন মাত্রা যোগ করবে: মাকসুদুর রহমান

আলোকিত চাঁদপুর রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ভিপি নুরের ওপর হামলা দেশে সংকটের নতুন মাত্রা যোগ করবে: মাকসুদুর রহমান

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান বলেছেন, ভিপি নুরের ওপর হামলা পূর্ব পরিকল্পিত কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। নুরের ওপর হামলা রহস্য জন্ম দিয়েছে। কাদের ইশারায় ভিপি নুরের ওপর হামলা হয়েছে তা সরকারকে জনতার সামনে স্পষ্ট করতে হবে। এ হামলা ফ্যাসিবাদী কায়দায় হয়েছে। এ হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং এ হামলা দেশে সংকটের নতুন মাত্রা যোগ করবে। পতিত সরকার জাতীয় পার্টি দিয়ে ট্রাম্পকার্ড খেলতে চায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

শনিবার সকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

সেক্রেটারি কেএম ইয়াসিন রাশেদ সানীর পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা নাছির উদ্দীন, মাওলানা হেলাল আহমাদ, মাওলানা আনসার আহমাদ, ডা. বেলাল হোসাইন, হাফেজ নেয়ামতুল্লাহ, মাওলানা আবু হানিফ, মাওলানা মজিবুর রহমান, আবুল বাশার, ফয়সাল আহমাদ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মাকসুদুর রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন ফ্যাসিবাদীরা বাংলাদেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠা হতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে।