‘ওসিকে বলেন আসতে, আমি মনজিল ভাইয়ের শ্যালক, আমি ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট’


চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ঘটনা তদন্তে যাওয়া এক পুলিশ পরিদর্শককে হুমকি ধমকি দিয়ে লাঞ্ছিতকারী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি শাওন কে বহিষ্কার করেছে দলটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরালের পর ওই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পরদিন দলটি থেকে এই বহিষ্কারাদেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিকালে এ বহিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল।
তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদপুর জেলা শাখার অধীনস্থ ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬ নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাওন কাবীকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে কোনরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। যা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
এর আগে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শাওন কাবীকে শালীনভাবে পুলিশের এক এসআই একটি অভিযোগ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করে সদুত্তর না পেলে তাকে থানায় যেতে বলেন। এতে কাবী দাম্ভিকতার সাথে সেই এসআইকে বলেন, আমি যাবোনা, আপনার ওসি স্যাররে বলেন এখানে আসতে। আমি মনজিল ভাইয়ের শ্যালক (মনজিল হচ্ছেন ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ইউনিয়ন ছাত্র দলের প্রেসিডেন্ট। এসময় তিনি সবার উপস্থিতিতেই পুলিশকে বার বার শাসাতে থাকেন এবং দেখে নেয়ার হুমকি ধমকি দিতে থাকেন।
থানায় অভিযোগ দেয়া ভিক্টিম নুরে আলম বলেন, আমরা প্রাইভেটকার যোগে লক্ষীপুরের রায়পুর থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জে আমার বোনের বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলাম। সেখানে বর্ডার নামক স্থানে আমাদের গাড়ীর সামনে থাকা একটি লড়িকে আমরা ওভারটেক করার চেষ্টা করলে সামনে হঠাৎ ডানপাশে আরো একটি গাড়ী আসার কারনে আমাদের গাড়ী সামনে এগুতে পারছিলো না। এসময় আমাদের গাড়ীর পেছনে থাকা অন্য মোটরসাইকেল পেছনে পড়ে যায়। যে ব্যাপারে আমরা মোটেও অবগত ছিলাম না। পরে আমরা আমাদের মতো যখন ওখান থেকে চলে যাচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ করেই গৃদকালিন্দিয়ার জোড় কবর নামক স্থানে এসে সেই বাইকযোগের আরোহীরা আমাদের গাড়ী গতিরোধ করে। এর এক পর্যায়ে ওদের কেউ খবর দিলে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ওই শাওন নামের ছেলেটি ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলযোগে এসে আমাদের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে দলবলসহ আমাদের মারধরসহ হেনস্তা করে গাড়ীর চাবিসহ টাকা পয়সা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করতে থাকে। পরে বাধ্য হয়ে নিরাপত্তা পেতে বিষয়টি আমরা থানা পুলিশকে অবগত করি এবং এর প্রেক্ষিতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে সে পুলিশের সাথেও দাম্ভিকতার সাথে বাকবিতন্ডা করে পুলিশ হেনস্তার চেষ্টা করে। যা ভিডিও করে আমাদের সাথেরই একজন। তা আমরা সামাজিক মাধ্যমে ছাড়ার পরই বিষয়টি সবার সামনে আসে এবং তার শাস্তির দাবী উঠে।
এদিকে ঘটনাস্থলে যাওয়া হেনস্তার স্বীকার হওয়া চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার এসআই খোকন চন্দ্র দাশ বলেন, নুরে আলম নামে এক ব্যক্তি প্রাইভেটকারযোগে রায়পুর থেকে ফরিদগঞ্জে আসছিলো। পথে বর্ডার নামক স্থানে প্রাইভেটকারের পেছনে মোটরসাইকেলে দুইজন পড়ে আহত হয়। এতে সামনের প্রাইভেটকারের কোন দোষ না থাকলেও তারা কতিপয় যুবকের কাছে জিম্মি হয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে নিরাপত্তা পেতে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়। এরপর প্রাইভেটকারে থাকা ব্যক্তিদের অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত শাওন কাবী রিজা আমাদের সাথেও খারাপ আচরন শুরু করে এবং আমার মুঠোফোন কেড়ে নিতে চেষ্টা করতে থাকে। এরপর তাকে থানায় আসতে বললে সে বলে আমি যাবো না আপনার ওসি স্যাররে বলেন এখানে আসতে। পরে উর্দ্ধতনের নির্দেশে আমরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোঃ শাহ আলম বলেন, রাতেই শাওন নামের ওই ছাত্রদল নেতাকে আমরা আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন