খুঁজুন
শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র, ১৪৩১

ফরিদগঞ্জে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে

নদীরঘাট ভেঙ্গে রাতের আধারেই চলছে গণশৌচাগার নির্মাণ

বারাকাত উল্লাহ
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ মার্চ, ২০২৫, ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
নদীরঘাট ভেঙ্গে রাতের আধারেই চলছে গণশৌচাগার নির্মাণ

ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান পাটওয়ারী সরকারি সম্পত্তি নিরাপদ রাখা তার দায়িত্ব। অভিযোগ উঠেছে তিনিই দখলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ডাকাতিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ও পাকা ঘাট বন্ধ করছেন তিনি। সেখানে (নদীতে) টয়লেট নির্মাণ করবেন। যা একাধারে জনস্বার্থ বিরোধী ও সরকারী নিয়ম-নীতির লংঘন। তার সাথে রয়েছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। ব্যবসায়ীদের অপর অংশ ও এলাকাবাসী এটা চায় না। কিন্তু, চেয়ারম্যান পক্ষ নেয়ায় তারা জোরালো ভূমিকা নিতে পারছেন না। চলছে উত্তেজনা। আইন শৃংখলার অবনতি হতেও পারে- দাবী এলাকাবাসীর। ঘটনাস্থল চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের গল্লাক বাজার।
এদিকে, চেয়ারম্যানের এমন ভূমিকায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী, এলাকাবাসী ও সমাজের সচেতন মহল।
জানা গেছে, ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গল্লাক বাজার। বাজারটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাজারের পাশেই আছে কলেজ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও মসজিদ। ঘাটে নেমে ও বসে নদীতে প্রবাহমান পানি ব্যবহার করেন প্রায় সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।
স্থানীয় ও উপজেলা ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হয়েছিলো। দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ রেকর্ড দেখে জানিয়েছেন ডাকাতিয়া নদী ১নং খাস খতিয়ান মূক্ত। এ সব ভূমি দখল করা আইনতঃ বেআইনি। অপরদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কোনোভাবেই এ কাজ সমর্থন করা যাবে না। বরং, তা বন্ধ করাই সরকারের দায়িত্বশীলদের কাজ। খাস ভূমিতে সরকারি কর্তৃপক্ষ ব্যতীত কেউ কোনো প্রকার স্থাপনা করতে পারেন না। করলে আইনতঃ দন্ডনীয় অপরাধ।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঐতিহ্যবাহী জনগুরুত্বপূর্ণ ওই খেয়াঘাট বন্ধ করা হয়েছে। একই সাথে ঘাট দখলে নিয়ে শৌচাগার নির্মাণ কাজ চলমান আছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান পাটওয়ারী শৌচাগার নির্মাণের জন্য জায়গাটি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এ কথা বলেছেন, বাজার ব্যবসায়ী কমিটির আহবায়ক মোঃ ইমান হোসেন। শৌচাগার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে প্রকল্পের ব্যবস্থাও করে দেন তিনি।
নির্মাণ কাজ শুরুর পর ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের একাংশ সরকারী সম্পত্তি দখল এবং সম্ভাব্য পরিবেশ দূষনের আশঙ্কায় আপত্তি তোলেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে উল্টো কাজের গতি দ্বিগুণ করা হয়েছে। বরং, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে রাতের অন্ধকারে তড়িঘড়ি কাজ চলছে। এ জন্য সরকারের দায়িত্বশীলদের প্রতি ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর।
অধিকাংশ এলাকা সিআইপি’র আওতায় থাকা সত্ত্বেও, গত বছর ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়। পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন দুলালের নেতৃত্বে ডাকাতিয়া নদী ও খালগুলোকে স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে দিতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে ‘ডাকাতিয়া নদী ও খাল খনন সংগ্রাম কমিটি’। জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসনও তাতে সাড়া দিয়ে উপজেলাব্যাপী সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই মধ্যে খেয়াঘাট দখল করে নদীর তীরে শৌচাগার নির্মাণ কার্যক্রম জন্ম দিয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের।
খাস ভূমিতে শৌচাগার নির্মাণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নে, ‘না’ সূচক জবাব দিয়েছেন গল্লাক বাজার ব্যবসায়ী কমিটির আহবায়ক মোঃ ইমান হোসেন। বাজার ব্যবসায়ী কমিটি সংঘবদ্ধভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে শৌচাগার নির্মাণ করছে, বিষয়টি ন্যায়সঙ্গত কিনা? খেয়াঘাট ভেঙে শৌচাগার নির্মাণ বাজার কেন্দ্রিক সম্ভাব্য শিল্পায়ন এবং ব্যবসায়ীদের বৃহত্তর স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে কিনা? খাস জমিতে ব্যক্তিগত ইচ্ছায় কোনো করতে পারেন কি না। তিনি, এসব প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর জাহিদ হাসান বলেন, খোঁজ নিচ্ছি। এখানে আইন লঙ্ঘন হয়ে থাকলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া বলেছেন, খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো। কাউকে কাজের অনুমতি আমি দেইনি। সরকারী জায়গা দখল মুক্ত করতে শীঘ্রই কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়ে বলেন, ঘাট বন্ধ করে ডাকাতিয়ায় শৌচাগার নির্মাণে ইউপি চেয়ারম্যানের ভূমিকা থাকলে আমি তাকে এ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলবো।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। কিছু করণীয় থাকলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।

মাত্র ৫ টাকায় ঈদের নতুন পোশাক : হাসি ফুটলো ৫০০ শিশুর

আলোকিত চাঁদপুর রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
মাত্র ৫ টাকায় ঈদের নতুন পোশাক : হাসি ফুটলো ৫০০ শিশুর

মাত্র ৫ টাকা! এই টাকায় হয়তো আমরা এক কাপ চা কিনি কিন্তু চাঁদপুরের ফরাক্কাবাদের ৫০০ শিশুর কাছে এই ৫ টাকা ছিল ঈদের নতুন জামার স্বপ্ন পূরণের চাবিকাঠি। ঈদের আনন্দ যেখানে অনেকের জন্য নতুন পোশাকের হাসি, সেখানে ফরাক্কাবাদের শত শত সুবিধাবঞ্চিত শিশুর সেই হাসি ছিল অনিশ্চিত। তাদের সেই স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এসেছে স্বপ্নতরু সামাজিক সংগঠন।

“মানবতার কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ” এই স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে, দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে স্বপ্নতরু। তারই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে স্বপ্নতরু সামাজিক সংগঠনের ফরাক্কাবাদ শাখা আয়োজন করে এক ব্যতিক্রমী ঈদ বাজারের।

শনিবার সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার ফরাক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ যেন রঙিন হয়ে ওঠে সেই শিশুদের হাসিতে। অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে ৫ টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়া হয় নতুন ঈদের পোশাক।

তবে এটি কোনো দান নয়, ছিল এক সম্মানের আয়োজন। শিশুদের হাতে জামা তুলে দেওয়া হয় ‘ক্রয় করার’ অনুভূতি দিয়ে, যাতে তারা বুঝতে পারে এই জামা তারা নিজেরাই কিনেছে, দয়ার হাত পেতে নয়।
স্বপ্নতরু সামাজিক সংগঠনের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমরা চাই, কেউ যেন ঈদের দিনে নতুন জামা না পেয়ে কষ্টে না থাকে। সেই ভাবনা থেকেই ৫ টাকার বিনিময়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। যাতে তারা বোঝে, এ আনন্দ তাদের নিজের অধিকার।”

ঈদের নতুন জামা হাতে পেয়ে অনেক শিশুর চোখে ছিল খুশির জল। কারও হাতে রঙিন জামা, কারও হাতে নতুন ফ্রক, কেউবা পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে বলছিল এবার আমিও নতুন জামা পরব!”
ফরাক্কাবাদের স্কুল মাঠের সেই দৃশ্যটা যেন ছিল মানবতার সবচেয়ে সুন্দর ছবির মতো।

মাত্র ৫ টাকায় কেনা জামার বিনিময়ে শত শত শিশুর মুখে ফুটে উঠলো ঈদের হাসি। স্বপ্ন দেখুক তারা, এগিয়ে যাক মানবতা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্বপ্নতরু সংগঠনের সকল শাখার সদস্যরা।

চাঁদপুর এসএসসি ৯৩ ব্যাচ বন্ধু মহলের ইফতার মাহফিলে যুগ্ম সচিব নাজমুল আহসান

আলোকিত চাঁদপুর রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর এসএসসি ৯৩ ব্যাচ বন্ধু মহলের ইফতার মাহফিলে যুগ্ম সচিব নাজমুল আহসান

চাঁদপুর এসএসসি ৯৩ ব্যাচ বন্ধু মহলের ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত বন্ধু মোহাম্মদ নাজমুল আহসানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ৯৩ ব্যাচের সকল বন্ধুরা।

চাঁদপুর এসএসসি ৯৩ ব্যাচ বন্ধু মহলের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের রেডচিলি চাইনিজ এন্ড রেষ্টুরেন্টে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

ইফতার মাহফিলে অংশ নেন এসএসসি ৯৩ ব্যাচের বন্ধু ও বাংলাদেশ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ নাজমুল আহসান।

ইফতার মাহফিলের পূর্বে ৯৩ ব্যাচের সকল বন্ধুরা মিলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব নাজমুল আহসানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
পরে বন্ধু মহলের আব্দুল গফুরের দোয়া ও মুনাজাত পরিচালার মাধ্যমে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় চাঁদপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের এসএসসি ৯৩ ব্যাচের সকল বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক

শওকত আলী
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক

পবিত্র ঈদুল ফিতর সুন্দরভাবে উদযাপন করার লক্ষ্যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

শনিবার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জেলার প্রতিটি উপজেলায় আহত ও শহিদ পরিবারের কাছে ঈদ উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১৪৫ জন আহত এবং ৩১ জন শহীদ পরিবারকে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়। এছাড়াও জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ২৯ জন শহীদ পরিবারকেও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ঈদ সামগ্রী দেয়া হয়।

ঈদ সামগ্রীর মধ্যে ২ কেজি পোলাওয়ের চাল, সয়াবিন তেল ২ লিটার, সেমাই ৪ প্যাকেট, চিনি ১ কেজি, কিসমিস ও গুড়া দুধ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জানান, আমি চেয়েছি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা যেন পবিত্র ঈদুল ফিতর সুন্দরভাবে উদযাপন করতে পারে তার জন্যে একটু ক্ষুদ্র উপহার সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

ডিসি আরো বলেন, শুধুমাত্র ঈদ নয়, সবসময়ই চাঁদপুর জেলা প্রশাসন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত এবং শহীদ পরিবারের পাশে থাকবে। আমি আশাকরি রাষ্ট্রও সবসময়ই তাদের পাশে আছে এবং থাকবে। কারণ রাষ্ট্র সবসময়ই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত এবং শহীদদের কথা ভাবেন এবং চিন্তা করেন।