চাঁদপুর সরকারী জেনারেল হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে

শওকত আলী
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫ । ৮:২১ অপরাহ্ণ

চাঁদপুর সরকারী জেনারেল হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, কাঁশি, ঠান্ডা জনিত শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।

শুক্রবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩৫ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জানা যায়। এ নিয়ে গত ৫ দিনে দেড় শতাধিকেরও বেশি শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। এতে এ হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীদের চাপ। বিছানা সংকটে করিডোর এবং বারান্দার মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের।

জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল হলেও বর্তমানে সব রোগী মিলিয়ে ৫৬২ জন রোগী ভর্তি আছে। এক হিসেবে গত ৫ দিনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রায় দেড় শতাধিক শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। এসব রোগীদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাঁশি, ঠান্ডা জনিত শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে। এসব শিশু রোগীর মধ্যে ৬ মাস থেকে এক দেড় বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি। তারা জ্বর, ঠান্ডা , নিউমোনিয়া রোটা ভাইরাস জনিতরোগে আক্রান্ত হয়েছে বেশি ।

হাসপাতালের তৃতীয় তলার শিশু ওয়ার্ডে দেখা যায়, শিশু বিভাগে প্রচুর রোগী ভর্তি রয়েছে। গত ১১ আগস্ট থেকে ১৫ আগষ্ট সন্ধ্যায় পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে প্রায় দেড় শতাধিক শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে।

এরমধ্যে গত ১১ আগস্ট শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি ছিল ১১১ জন। এদিন সারাদিনে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৮ জন। ১২ আগস্ট মঙ্গলবার ভর্তি ছিল ৯৬ জন, নতুন করে ভর্তি হয় ৩৫ জন। ১৩ আগস্ট বুধবার ভর্তি ছিল ১০৯ জন, সারাদিনে নতুন ভর্তি হয় ৩৮ জন। ১৪ আগস্ট ভর্তি ছিল ১০৭ জন এবং সারাদিনে ২৫ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জানা যায়। ১৫ আগস্ট ভর্তি ছিল ১৩০ এবং নতুন আরো ৩৫ জন ভর্তি হয়। হিসেব করে দেখা গেছে ৫ দিনে সর্বমোট ১৬০জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে এবং এই ৫ দিনে সর্বমোট রোগীর ভর্তি ৫৬২ জন।

দেখা গেছে, রোগীদের চাপে হাসপাতালের কোথাও ঠাঁই নেই। শিশু ওয়ার্ডের সবকটি বিছানা পরিপূর্ন হয়ে মেঝেতেও রোগীদের জন্য বিছানা পাতা হয়েছে। এসব রোগীরা জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, খিচুনী এবং নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এছাড়াও অনেক শিশু রোগীকে অভিভাবকরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে যান। একই ভাবে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন বয়স্ক রোগীরাও।

অন্যদিকে হাসপাতলে কুকুর, বিড়ালের উপদ্রব্য দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের বেডে ও বেডের নীচে বিড়ালের বিচরণ লক্ষণীয়।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সৈয়দ আহমেদ কাজল জানান, শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। একই ভাবে অসুস্থ হচ্ছেন বৃদ্ধরা। বিশেষ করে ঘরে ভাইরাস জ্বরে বৃদ্ধদের সাথে শিশুরাও হঠাৎ, জ্বর সর্দি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট জনিতরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। তাই গত বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে শিশু রোগীদের প্রচুর চাপ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিছানা ও স্থান সংকট।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. জাকির হোসেন ।  কপিরাইট © দৈনিক আলোকিত চাঁদপুর

প্রিন্ট করুন