ঢাকা গুলিস্তান টু বাবুর হাট রূটে নিয়মিত চলাচলকারী জৈনপুরী বাস চালাচ্ছেন অল্প বয়সী হেল্পার ও অদক্ষ্য চালকরা। প্রথমে দক্ষ্য ড্রাইভার বাস কিছুক্ষন চালানোর পরেই চালকের আসনে বসিয়ে দেওয়া হয় অল্প বয়সী হেল্পার ও অদক্ষ্য চালকদের। এতে করে পুরো যাত্রাই আতঙ্কে কাটে যাত্রীদের।
কয়েকজন যাত্রী জানান, ১৯ আগস্ট মঙ্গলবার গুলিস্তান থেকে রাত সাড়ে আটটায় জৈনপুরীর রেজিঃ ৪৩০ নং বাসটি চাঁদপুর বাবুরহাটের উদ্দেশ্য রওনা হয়। বাসের ড্রাইভার যিনি ছিলেন তিনি প্রথমে বাস চালান। তিনি গুলিস্তান হতে শুরু করে মতলব পেন্নাই সড়ক পর্যন্ত বাসটি চালিয়ে নিয়ে আসেন। বাসে আনুমানিক ৩০/৩৫ জন যাত্রী হবে প্রত্যেকেই চাঁদপুরের উদ্দেশ্য রওনা দেন। বাসের ড্রাইভার প্রথমে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ও অধিক হর্ণ বাজিয়ে গাড়ি চালাতে থাকেন। গাড়িতে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই বারবার ড্রাইভারকে নিষেধ করা সত্বেও তিনি একই গতিতে এবং একই অবস্থায় গাড়ি চালাতে থাকেন। গাড়িটি তিনি এমন ভাবে চালাচ্ছেন যেন মনে হচ্ছিল এই বুঝি এক্সিডেন্ট হলো। আমরা ড্রাইভারকে বলি আমাদের আধা ঘণ্টা এক ঘন্টা দেরি হোক সমস্যা নাই কিন্তু গাড়ি আস্তে চালিয়ে যান এভাবে গাড়ি চালালে যেকোনো সময় এক্সিডেন্ট হতে পারে, কিন্তু ড্রাইভার কারো কথার তোয়াক্কা না করে নিজের মত করে গাড়ি চালাতে থাকেন।
তারা আরো জানায়, কয়েকবার অন্য গাড়ির সাথেও ধাক্কা লেগেছিলো তবুও তিনি নিয়ন্ত্রণ করে গাড়ি চালাননি। যিনি ড্রাইভার ছিলেন তার পেশাদারি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও সবাই বলছিলো ওনি হেল্পার থেকে শিখে ড্রাইভার হয়েছেন, ওনার ড্রাইভিং করার মধ্যে অনেক কিছু ঘাটতি রয়েছে যা রোড এক্সিডেন্ট হওয়ার জন্য যথেষ্ট। গাড়ি দাউদকান্দি পার হয়ে মতলব নায়েরগাঁও আসলে ড্রাইভার তার হেল্পারের হাতে গাড়ি বুঝিয়ে দিয়ে বাড়িতে চলে যান। ড্রাইভারের বয়স আনুমানিক ২৫/২৬ হবে কিন্তু তার হেল্পারের বয়স আনুমানিক ১৬/১৭ হবে। এই অল্প বয়সী হেল্পার দিয়ে ড্রাইভার গাড়িটিকে বাবুরহাটের উদ্দেশ্য ছেড়ে দেন। এ অবস্থায় গাড়ির সকল যাত্রীই হতভম্ভ হয়ে যায়।
হেল্পারের আবার হেল্পার ছিলো যার বয়স মাত্র ১২ বছর। এরকম অদক্ষ কিশোর দিয়ে এত ভয়ংকর সড়কে গাড়ি চালিয়ে মানুষের জীবন নাশের গল্প তৈরির কি প্রয়োজন। প্রশাসনিক সঠিক ব্যবস্থা থাকলে এরকম ঘটনা কখনো হতো না।
হেল্পার যখন গাড়ি চালাচ্ছিন যেন মনে হচ্ছিল এই যেন সড়কের পাশে পুকুরে গিয়ে বাসটি পড়লো, ড্রাইভারের মতন হেল্পারও বাসটিকে অন্য গাড়ির সাথে ধাক্কা মেরে দাড়িয়ে আছে, অল্প বয়সী হেল্পার যখন বাসটি চালাচ্ছিল সাথে একটান বিড়ি আর একটান কোকও খাচ্ছিলো। বাসের সব যাত্রী বলাবলি করছিলো, হেল্পার সাহেব আপনি বিড়ি খাওয়া বাদ দিয়ে ধীর গতিতে বাস চালান, মানুষের জীবন নিয়ে মস্করা করিয়েন নাহ। কিন্তু হেলপার কিছুতেই কথা কানে তুললো না। মনে হচ্ছিল ড্রাইভারের চেয়ে হেল্পারের ব্যবহার আরো জগণ্য প্রতিমধ্যে হেল্পারের গাড়ি চালানো দেখে কয়েকজন ভিডিও করা ধরছিলো তখনই গাড়িতে থাকা আরো দুজন হেল্পার বাজে ভাবে কথা বলা শুরু করলো।
এভাবে চলত থাকলে মানুষের যাতায়াতের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। সাধারণ স্বল্প আয়ের মানুষজন বাসে চলাচল এড়িয়ে চলবে। গৌরিপুর হতে মুন্সিরহাট পর্যন্ত এই সড়কটিতে দুই আড়াইশ বাঁক রয়েছে। রাস্তার দু পাশে রয়েছে ছোট বড় পুকুর ও খাল। কিন্তু তার মধ্যে ঢাকাগামী অনেক বাস, ট্রাক এমনকি সিএনজি, অটোরিকশা ও বাইক নিয়মিত চলাচল করে এই রূটে।
এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য নিয়মিত যাতায়াতকারী অনেক যাত্রীদের মাঝে এক ধরনের আতংক সৃষ্টি হয়েছে যার কারনে ভুক্তভোগী যাত্রীগণ চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, যেন প্রশাসনের দিক থেকে জৈনপুরী বাস মালিক সমিতিকে সতর্ক ও হুশিয়ারী করে দেন।
উল্লেখ্য, ৮ই জুন চাঁদপুর-মতলব পেন্নাই সড়কের যাত্রীবাহী জৈনপুরী বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত ও শিশুসহ সাতজন গুরুতর আহত হয়েছে। গতবছরও ঢাকা থেকে আসার পথে এই জৈনপুরী বাস এক্সিডেন্ট করে একজন নিহত হয়।
শুধুমাত্র অপেশাদারি ও অদক্ষ অল্প বয়সী হেল্পার দিয়ে গাড়ি চালানোর কারনে প্রতিনিয়তই হচ্ছে দূর্ঘটনা।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মো. জাকির হোসেন
dailyalokitochandpur@gmail.com, +8801613090707
Copyright © 2025 Dailyalokitochandpur. All rights reserved.